বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
যোগ্য নেতৃত্বই গড়বে আগামীর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ!
অনলাইন ডেস্ক
সৎ, নীতিবান ও দক্ষ অফিসাররাই আগামী দিনে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন—এমনই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (২০ জুলাই) সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ–২০২৫’-এর উদ্বোধনকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এই প্রথম পর্বের পদোন্নতি বোর্ডে কর্নেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদে উন্নীত করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. ইউনূস বলেন, “শুধু পদের যোগ্যতাই নয়, বরং সততা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের বাস্তব প্রমাণই অফিসারদের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কেবল সীমান্তের প্রহরী নয়, বরং জাতীয় দুর্যোগ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সহায়তা পর্যন্ত সবখানেই নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান। এই বাহিনীর আত্মত্যাগ, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ আমাকে মুগ্ধ করে।”
প্রধান উপদেষ্টা এ সময় শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সেইসব সাহসী সেনানীদের যাঁরা জীবন দিয়েছেন জাতির স্বাধীনতার জন্য। একইসঙ্গে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
নির্বাচনী পর্ষদের উদ্দেশ্যে দেওয়া নির্দেশনায় ড. ইউনূস বলেন, “পদোন্নতির ক্ষেত্রে কেবল পেশাগত দক্ষতা নয়, অফিসারের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, আনুগত্য, বিশ্বস্ততা এবং নিযুক্তিগত উপযুক্ততাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেনা সদস্যদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে বাহিনীর ভেতরে যোগ্য নেতৃত্ব বিকাশ ঘটাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যেসব অফিসার রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে নিরবিচারে কর্তব্য পালন করেছেন, তারাই প্রকৃতভাবে পদোন্নতির যোগ্য। সেনাবাহিনীর কাঠামোয় নেতৃত্বের চেইন তৈরি করতে হলে নৈতিকতা ও দক্ষতা উভয়কেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নিজে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান। এ সময় সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে প্রধান উপদেষ্টা একটি গ্রুপ ফটোসেশনে অংশ নেন এবং সেনাসদরের পরিদর্শন বইয়ে নিজস্ব অনুভূতি লিপিবদ্ধ করেন।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সামরিক নেতৃত্ব বাছাইয়ে এই নির্বাচন কমিশন দেশের নিরাপত্তা ও নৈতিক শৃঙ্খলার প্রতি সেনাবাহিনীর প্রতিশ্রুতিকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।